Skip to main content

NBI ! মধ্যমগ্রাম স্কুলের পাশে দাঁড়াতে জয়সওয়াল পরিবারের এভারেস্ট বেসক্যাম্প পাড়ির প্রস্তুতি

কলকাতা, অক্টোবর ২০২৩:- 
বিকাশ আর মধুরিতা জয়সওয়াল কলকাতার ছেলেমেয়ে। দুজনের জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, সবটাই কলকাতা জুড়ে। বর্তমানে তারা লন্ডনে বসবাসকারী সফল ব্যবসায়ী দম্পতি। ভারত আর ব্রিটেন জুড়ে তাদের ব্যবসায়িক পরিধি। তবে এর বাইরেও তাদের ইচ্ছে রয়েছে, স্বপ্ন রয়েছে। কলকাতার অনতিদূরে মধ্যমগ্রামে তারা শুরু পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের জন্য বিশ্বমানের স্কুল। সেই স্কুলের নাম গ্যালাক্সি গুরুকুল। কিন্তু বিশ্বমানের স্কুল তো আর বললেই হল না। তার জন্য দরকার সেরা পরিকাঠামো আর অর্থ। সেই অর্থ সংস্থানের জন্য অভিনব উপায় নিয়েছেন এই দম্পতি। নিজেদের ছেলেমেয়ে ভিভান আর তারান্নুম, যারা স্কুলের গণ্ডি পেরোয়নি এখনও, তাদের নিয়ে এভারেস্ট বেসক্যাম্প যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন স্বামী স্ত্রী। ইতিমধ্যেই জয়সওয়াল পরিবার ১৫০ দিনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য হল মধ্যমগ্রামে তাদের বানানো স্কুল গ্যালাক্সি গুরুকুলের জন্য ৫০ লাখ টাকা অর্থ সংস্থান করা।

জীবনের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না বিকাশ জয়সওয়ালের জন্য। বরং তার জীবনটা খানিক রূপকথার মতোই। তার নিজের কথাতেই," আমি একটি নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছি। বাবাকে হারিয়েছি জন্মের আগেই। আমার মা, আমি, ভাইরা ও বোন সকলেই দারিদ্রের মধ্যে বড় হয়েছি। অর্থের অভাবে দুইবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যে পড়াশোনায় ছেদ পড়ার অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এমনও দিন গেছে যে দুই বেলা খাবার জুটবে কিনা সেটাও প্রশ্নের মুখে থেকেছে।" অন্য দিকে মধুরিতা গড়পড়তা বাঙালি পরিবারে থেকে বড় হয়েছে যেখানে দৈনন্দিন সমস্যা থেকেই গিয়েছে শৈশবে। তবে জীবনের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ জয়সওয়াল দম্পতি দুজনেই স্বনামধন্য চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। 

নিজেদের ব্যবসার ক্ষেত্র গ্যালাক্সি অফ হোম ইতিমধ্যেই ভারত ও ব্রিটেনে অফিস খুলে কাজ করে চলেছে। ব্রিটেনের টিমে রয়েছে পঞ্চাশের বেশি কর্মী আর ভারতের অফিসে রয়েছে তিরিশের বেশি কর্মী। ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ আর জুম কলের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দুই দেশে তালে তাল মিলিয়ে কাজ করে চলেছে এই সংস্থা। 

কেন গ্যালাক্সি গুরুকুল? বিকাশ ও মধুরিতার কথায়,"আমরা সফলভাবে গ্যালাক্সি অফ হোম তৈরি করার পর ঠিক করি যে সমাজকে ফিরিয়ে দেব সেই সাফল্য যা আমরা পেয়েছি। আমরা শেষ কয়েক বছর ধরে ভাবছিলাম যে কি করব। আমরা একটি ফুড ব্যাংক তৈরি করার কথা ভাবি কিন্তু শেষমেষ স্কুল তৈরির সিদ্ধান্ত নিই। একটি স্কুল সমাজে দীর্ঘস্থায়ী ফারাক গড়ার ক্ষমতা রাখে। শিক্ষার ওপরে কিছু হয় না। শুরুতে আমরা কিছু সমস্যার মুখোমুখি হই একটি বিল্ডিংকে চালু স্কুলে রূপান্তরিত করতে। আমাদের সবচেয়ে কঠিন লড়াই হল পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের বোঝানো তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে।"

তবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকের ভাবনা এমনি এমনি আসেনি বিকাশ আর মধুরিতার। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে ফান্ড তোলার জন্য, অবশ্যই কোন মহৎ উদ্দেশ্য মাথায় রেখে। ঠিক সেরকম ভাবেই জয়সওয়াল পরিবার ভেবেছিল যে আলাদা কিছু করবে। অর্থনীতিক দিক থেকে তারা ঠিক করেই রেখেছিল যে আর্থিক দিক থেকে ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান সংগ্রহ থাকবে মূল লক্ষ্য। তাই এভারেস্ট বেস ক্যাম্প এই চার জনের জীবনে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। 

এভারেস্ট বেসক্যাম্প পৌঁছানোর জন্য ১৫০ দিনের প্রস্তুতি পর্ব চলছে জয়সওয়াল পরিবারের। মাথায় রাখতে হবে, শুধু বিকাশ আর মধুরিতা, সাথে ভিভান আর তারান্নুম থাকছে এই ট্রেকে। গত ১৪ সপ্তাহের প্রস্তুতি পর্বে ব্রিটেনের ১৪টি পাহাড়ে ইতিমধ্যেই সফলভাবে ট্রেক করেছে জয়সওয়াল পরিবার। তারপর ৩-৪ দিনের সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ওয়েট ট্রেনিং শিডিউল রয়েছে পরিবারের। এছাড়া রোজ ১০-১৫০০০ স্টেপ পরিবারের সকলকেই করতে হচ্ছে। পুরো পরিবার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে জ্যাক ক্লার্কের কাছ থেকে। জ্যাক নিজের ইতিমধ্যেই সিমিউলেশনের সাহায্যে ১২ ঘণ্টায় ৪৪২৫০ ধাপ শেষ করে এভারেস্ট অবতরণ করেছেন। তাই জয়সওয়াল পরিবার কোনভাবেই নিজেদের প্রস্তুতিতে এতটুকু ফাঁক রাখতে চাইছে না। 

গ্যালাক্সি গুরুকুল নিয়ে অনেক স্বপ্ন রয়েছে জয়সওয়াল পরিবারের। বর্তমানে স্কুলের বেসিক পরিকাঠামোগত অভাব রয়েছে যেমন ডেস্ক, লাইব্রেরী, কম্পিউটার রুম, খেলার মাঠ ও অন্যান্য। এছাড়া বর্তমানে ৩০০ ছাত্রছাত্রীর পড়ার সুযোগ রয়েছে যেটি বাড়িয়ে ৬০০ করে তোলা লক্ষ্য বিকাশ ও মধুরিতা জয়সওয়ালের। এছাড়া প্রারম্ভিক স্তরে ক্লাস এইট অবধি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করা লক্ষ্য তাদের। 

বলাই বাহুল্য, সফলভাবে এভারেস্ট বেসক্যাম্পে পৌঁছনো এবং বহু মানুষের থেকে অর্থ অনুদান পেলে অনেকগুলো শিশুর জীবন বদলাতে পারবে শুধু নয়, তার সাথে সুন্দর নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে পারবে। তাই বিকাশ, মধুরিতা, ভিভান আর তারান্নুমের জন্য সকলকে শুভেচ্ছা থাকছে।

Comments

Popular posts from this blog

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI // বেলগাছিয়ায় ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজো—২০২৬ দুর্গাপুজোর সূচনা আনুষ্ঠানিকভাবে।।

কলকাতা: রথযাত্রার পবিত্র তিথিকে সামনে রেখে উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে বৃহস্পতিবার আয়োজিত হল ঐতিহ্যবাহী “খুঁটি পুজো”। বেলগাছিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি পর্ব। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ নির্মাণের শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে খুঁটি পুজো বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ধর্মীয় নিয়মনীতি মেনে পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ভক্তি ও উৎসাহের পরিবেশে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি অরিন্দম সাহা , সম্পাদক অভিষেক দাস,কার্য নির্বাহী কমিটি সদস্য অনির্বাণ ভট্টাচার্য তাঁদের পাশাপাশি এলাকার বহু বাসিন্দা এই শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং দুর্গোৎসবের সূচনায় সামিল হন।পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করে উদ্যোক্তারা জানান, এই খুঁটি পুজোর মাধ্যমেই এবারের দুর্গোৎসবের পথচলা শুরু হল। তাঁরা আশাবাদী, সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণে আসন্ন দুর্গাপুজো আরও সাফল্যমণ্ডিত ও বর্ণময় হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলের মঙ্গল, শান্তি...

NBI // সাফল্যের ৬০ দিন পূর্তি: 'পোড়া বাঁশি'র উদযাপনে পরিচালক-অভিনেতাদের বর্ণাঢ্য সমাবেশ।।

ডিজিটাল ডেস্কঃ  সাম্প্রতিক টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে "তারামা মোশন পিকচারস" ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস নিবেদিত পরিচালক, শুভম দাস পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমা"পোড়া বাঁশি"র 60 Days celebration party অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রোডাকশন হাউসের নিজস্ব অফিসে। কেক কেটে সেলিব্রেশানের শুভ সূচনা হয়।  দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশিষ্ট গুণীজনদের সহিত অন্যান্য পরিচালক, টেকনিশিয়ানস ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিশেষ সম্বর্ধনার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আড্ডা খাওয়া দাওয়া এবং শিল্পীদের নাচ-গানের মধ্য দিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের জমজমাট সমগ্র অনুষ্ঠানটি মনোগ্রাহী হয়ে উঠে।   উপস্থিত ছিল বিশিষ্ট পরিচালক স্বপন সাহা, বিশিষ্ট অভিনেত্রী অনামিকা সাহা, পরিচালক শুভম দাস, শাস্ত্রীজি, প্লেব্যাক সিঙ্গার-অর্ণব ব্যানার্জি, গুরিয়া, কোরিওগ্রাফার-রত্না, পরিচালক কাঞ্চন নাগ, অনসূয়া সামন্ত, সরস্বতী দাস,রুনা (রায়না বূটিক), হাউস ইনচার্জ-রিনা দাস, হাউস ম্যানেজার-পবিত্র হালদার।  হিরোইনদের মধ্যে উপস্থিত ছিল-বনশ্রী, মৌপ্রিয়া, পৌলোমী, সিউ, সোনু,  অনসূয়া। অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ‍্যে উপস্থিত ছিল-মাধব,সৌমক, সুপ্রভাত...