Skip to main content

NBI // মদন মোহন হালদার চ্যালেঞ্জ শিল্ডের প্রত্যাবর্তন ঘিরে বীরভূমে ফুটবল জ্বর !

কলকাতা,নভেম্বর :-  - মদন মোহন হালদার চ্যালেঞ্জ শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট বীরভূমের বহু প্রতিক্ষিত ক্রীড়া অনুষ্ঠান শুরু হল। ১৯৯০ সালে আহমদপুর প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে তা এখন এই অঞ্চলের বিখ্যাত ফুটবল উৎসবে পরিনত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল দল এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে এখন ভীষণ আগ্রহী।
 
এই টুর্নামেন্টের চলাকালীন, একদিন একটি মেয়েদের ফু্টবল প্রদর্শনী ম্যাচ হয়ে থাকে। এই ম্যাচ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আহমদপুর প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মেয়েদের ফুটবল উন্নয়নের প্রতি আগ্রহ এবং উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। প্রসঙ্গত, চলতি বছরটা আহমদপুর প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের পঞ্চাশতম বছর পালন করছে। মদন মোহন হালদার চ্যালেঞ্জ শিল্ড পূর্বের তুলনায় এখন বিবর্তিত হয়েছে। কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে।এই জনপ্রিয় উৎসবমুখর ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন এখন সর্বাঙ্গীন সুন্দর।  পাঁচ হাজার টাকার বাজেটে যে ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল তা সর্বতভাবে এখন আরও  সমৃদ্ধ। 

বিভিন্ন জেলার ফুটবল দলের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক প্রভাব দেখা যায়। একই সঙ্গে মাঠের বাইরেও ক্রীড়া-উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের একাত্মতা ফুটে উঠেছে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা,স্থানীয় মানুষের যোগদান এবং নারী পুরুষের সম্মেলিত যোগদানের অনন্য মিশেলে এই টুর্নামেন্ট এলাকার দৈনন্দিন ক্যালেণ্ডারে ইতিমধ্যে  জায়গা করে নিয়েছে। আট দিনের মদন মোহন হালদার চ্যালেঞ্জ শিল্ড প্রতিযোগিতায় মুর্শিদাবাদ,দূর্গাপুর,বীরভূম এবং কলকাতার আটটি দল অংশ নিচ্ছে। ১৭থেকে ২০বছর বয়সী ফুটবলারদের কাছে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ যেখানে তারা তাদের ফুটবলের প্রতি আবেগ মেলে ধরার সুযোগ পায়। 

স্থানীয় অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়াও সাংসদ,বিধায়ক এবং সুব্রত ভট্টাচার্য,ভাস্কর গাঙ্গুলীর মত প্রথিতযশা ফুটবল তারকারা এই কর্মকান্ডকে উৎসাহিত  ও সমর্থন করতে উপস্থিত থাকেন। এই বছর সুজন পাণ্ডে,বিডিও,সাঁইথি ব্লক,বীরভূম,শ্রী মহাদেব দত্ত,প্রাক্তন ফুটবলার ও সমাজকর্মী,শ্রী প্রশান্ত সাধু,সভাপতি,সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতি,শ্রী সোমনাথ সাধু,প্রাক্তন সভাপতি,সাঁইথি পঞ্চায়েত সমিতি,শ্রী রাজেন্দ্র নাথ চন্দ্র,উপ প্রধান,আহমদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এর এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় স্কুল,কলেজ এবং ক্লাবের ছেলেমেয়েদের উৎসাহ উদ্দীপনা  এই টুর্নামেন্ট ঘিরে দেখা যায়। 

গত দশবছর ধরে হালদার ভেঞ্চার লিমিটেড এই টুর্নামেন্টকে সার্বিকভাবে সমর্থন করে আসছে। এই টুর্নামেন্ট শুধু ফুটবল খেলারই উৎসব নয় একই সঙ্গে কোম্পানির শতবর্ষের উত্তরাধিকারের অভিজ্ঞান। যা সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকাশও বটে। হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের চেয়ারম্যান, শ্রী প্রভাত কুমার হালদার বলেছেন,“হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বাস করি সুস্থ এবং শক্তিশালী  সমাজ গড়ে তুলতে খেলাধুলার প্রয়োজন রয়েছে। মদন মোহন হালদার চ্যালেঞ্জ শিল্ড শুধু ফুটবল টুর্নামেন্ট নয় তার থেকেও বাড়তি কিছু। বীরভূমের যুবাদের শরীর চর্চার প্রতি আগ্রহ, দলগত সংহতি এবং  খেলোয়ার সুলভ মানসিকতা গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা যোগায় এই ফুটবল টুর্নামেন্ট। আমরা  গর্বিত এই টুর্নামেন্টের পাশে সর্বতভাবে দাঁড়াতে পেরে, যা কেবলমাত্র  আমার বাবার উত্তরাধিকারের প্রতি সম্মানই নয়, একইসঙ্গে যুবাদের মাঠ এবং মাঠের বাইরে এই পরম্পরাকে অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা।”

এই টুর্নামেন্ট নামাঙ্কিত মদন মোহন হালদারের নামে। অত্যন্ত সম্মানীয় মানুষটি সমাজের সকলের প্রিয় ছিলেন। যা  সমাজের  সঙ্গে   কোম্পানির  দীর্ঘ সম্পর্কের কথা প্রমাণ করে। হালদার ভেঞ্চার লিমিটেড টুর্নামেন্টের সমৃদ্ধিকে সমর্থন করে।  তারা চায় এই টুর্নামেন্ট বীরভূম জেলার গণ্ডি অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ুক,যাতে বীরভূমের অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা বাকিদের নজরে  পড়ে। হালদার ভেঞ্চার লিমিটেড সমাজ উপকৃত হয় এমন যেকোনও উদ্যোগে অংশীদার হতে দায়বদ্ধ। গত একশো বছর ধরে মানুষ তাদের সমর্থন করে এসেছে। মদন মোহন চ্যালেঞ্জ শিল্ডের পৃষ্ঠপোষকতা তাই মানুষকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার অনেক উদ্যোগের মধ্যে একটি উদাহরণ মাত্র।

Comments

Popular posts from this blog

আস্তে চলেছে সম্পর্কের টানাপোড়া নিয়ে ছবি "তাকে আমি মন দিয়েছি"

নিউজ ডেস্ক:- আজ দুর্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অন্তর্গত কলকাতার নন্দনে স্ক্রিনিং হল নতুন পরিচালক প্রণবেশ বসু রায়ের প্রথম বাংলা সিনেমার। নিজের এই অভিষেক ছবি নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক বলেন, “আমি এই সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। উৎসব কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যারা আমার মতো নতুনদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।” সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু টিনেজ প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং যুবসমাজের মধ্যে বেড়ে চলা নেশার প্রতি আসক্তি। প্রণবেশ বলেন, “ছবিটি আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ছোটবেলার এক স্বপ্নের ফসল। আমি চাই, এই ছবি দেখে অন্তত একজন যুবক যদি নেশার পথ থেকে ফিরে আসে, তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।” দর্শকদের জন্য এই সিনেমা এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে—যেখানে একদিকে রয়েছে প্রেমের সরল উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে আছে আসক্তির ভয়ানক অন্ধকার, আর সেই অন্ধকার থেকে মুক্তির সৎ ও সাহসী পথ। সমাজের বাস্তব ছবিকে নিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন এই নবীন পরিচালক। এই ছবির একটি উল্লেখযোগ্য চমক হল, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সোমনাথ ভট্টাচার্যের অভিনয়। নতুন পরিচালক প্রণবেশের বন্ধু হিসেবে তিনি প...

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI !! উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল !!

কলকাতাঃ  কলকাতার কালীঘাটে ছিয়াত্তর বছর উত্তীর্ণ উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল এবছর অনুষ্ঠিত হল কলেজ প্রাঙ্গণে। গ্রীক চার্চ রো তে।সারা কলেজ জুড়ে ছিল বড়দিনের উৎসবের মেজাজ ।  যীশুখৃষ্টের জন্মদিনের প্রাক পর্বে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্রী কুশল বিশ্বাসের পরিচালনায় ছাত্রীদের যোগদানে প্রার্থনা , খ্রিস্টমাস হিম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  মেয়েদের এই কলেজে বড়দিন উপলক্ষ্যে কার্নিভাল এ বিক্রিত হয় তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবার এবং দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় নানা জিনিস ব্যাগ, পোশাক, অলঙ্কার ইত্যাদি। সুচারু, সুমেলি এবং কলেজের ইকো ক্লাব সারা বছর ব্যাপী মেয়েদের স্বনির্ভর করার ও পরিবেশ সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস যে কর্মশালা ও অন্যান্য আয়োজন করে তারই কার্যকরী বিকি কিনির সময় এই কার্নিভালের দিনটি। প্রাক্তণ ও বর্তমান অধ্যাপক ও ছাত্রীদের মিলনে এই আয়োজন আনন্দ মুখর হয়ে উঠেছিল।