দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার সুবুদ্ধিপুরের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭৬ বছরের বিধবা মনিকা হালদার অভিযোগ করেছেন তাঁর নামে থাকা একটি জমি বেআইনি ভাবে নকল কাগজপত্র তৈরি করে স্থানীয় এক ব্যাক্তি বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি বলেন,তাঁর স্বামী পরিমল কান্তি হালদার এক নামি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন ।২০১৯ সালে প্রয়াত হন।
তাঁর নিজের নামে একটি বাড়ি সহ জমি আছে লখীপুর আবাদ মৌজায়, নামখানা থানায়। ওই জমির দাগ নং ৩৩৭ আর ৩৫৫। এই ২ দাগে মোট ৫ শতক জমি আছে যার দলিল ও পড়চাও তাঁর নামে। গত বছর মে মাসে তাঁর বড়ো ছেলে সঙ্গীত হালদার ( পেশায় শিক্ষক ছিলেন, প্রয়াত ৭ মে, ২০২৪) মৃত্যুশয্যায় থাকার সময় টাকা জোগাড় করতে ওই জমি বিক্রির কথা ভাবেন। স্থানীয় এক লোক জমি বিক্রির খরিদ্দার দেখেন। তারপরই ওই জমি তার অজান্তে তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিক্রি হয়ে যায়। অরুণ কুমার বেরা ( বাবা মৃগাঙ্ক বেরা, গ্রাম শিবরামপুর, থানা নামখানা ) তাঁর নামে নকল কাগজ তৈরি করে জমিটা কিনেছেন বলে দাবি করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলার জমির তথ্য পোর্টাল " বাংলার ভূমি"তে ঐ ব্যাক্তির নামে নতুন তথ্যও রেকর্ড করা হয়েছে।
জমির মূল মালিক মনিকা হালদার আরো জানান,খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর ছোটো ছেলে সৈকত হালদার ১৭ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে জমি দেখতে যায় আর গিয়ে দেখে ঐ ব্যাক্তি ঘর রঙ করছে। এরপর তার ছেলে ও ছাত্র শামিরুল ফ্রেজার গঞ্জ কোস্টাল থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানায়। থানার কর্তব্যরত পুলিশ ওই দিন বিকেল ৪টের সময় জমির ক্রেতাকে নথিপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। জমির ক্রেতা আসেন কিন্তু মূল দলিল দেখাতে পারেন নি। আর দলিলের যে নথি দেখান,সেখানে দেখা যায় তাঁর সই ও ছবি জাল ।
থানার কর্তব্যরত পুলিশ তাঁকে যাবতীয় কাজ বন্ধেরও মৌখিক নির্দেশ দেন। এরপর ৪ মার্চ তিনি, তাঁর ছেলে ও তাঁর আইনজীবী নিয়ে নামখানা থানার লখীপুর আবাদ মৌজায় ( যেখানে তাঁর জমি ও বাড়ি রয়েছে) যান। গ্রামবাসীরা তাঁকে আসল মালিক হিসাবে চিহ্নিত করেন ও সহযোগিতার এগিয়ে আসেন। বেআইনি ক্রেতার সাক্ষী গোপাল ব্যানার্জি স্বীকার করেন জমি রেজিস্ট্রির দিন জমির আসল মালিক মনিকা হালদার কে দেখেননি, তাঁকে সই করতে ও দেখেননি। মনিকা হালদার সেজে অন্য মহিলা এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, জমির বেআইনি ক্রেতা অরুণ কুমার বেরাও প্রকাশ্যে সবার সামনে স্বীকার করেন তাঁকে ভুল বুঝিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি চিঠিও দিয়েছেন(১২ মার্চ)।
জমির আসল মালিক মনিকা হালদার বলেন, ৭৬ বছর বয়সে তাঁর পক্ষে আদালতে ছোটাছুটি করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় তিনি যাতে নিজের জমি ফেরত পান ও দোষীরা কঠোর শাস্তি পায় তাঁর জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
Comments
Post a Comment