Skip to main content

NBI !! সমাজসেবাই পরম ধর্ম: মানবতার সেবায় নায়েক পরিবারের অনন্য উদ্যোগ !

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:- 
সমাজসেবাই মানবজীবনের পরম ধর্ম। মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই সমাজের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। সমাজসেবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা বিশেষ সময়ের প্রয়োজন হয় না—এ এক চিরন্তন মানবিক দায়িত্ব। স্বামী বিবেকানন্দের অমর বাণী— “জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”—এই চিরন্তন সত্যকেই আমাদের সামনে তুলে ধরে।

আজকের সমাজে দারিদ্র্য, বৈষম্য, দুর্নীতি, নারীর নিরাপত্তাহীনতা এবং নানা ধরনের সামাজিক অবক্ষয় আমাদের চিন্তিত করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। কিন্তু প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন মানুষের মন, বিবেক ও মানবিকতা সত্যিকার অর্থে জাগ্রত হবে। মানবিক মূল্যবোধকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে পারলেই প্রতিষ্ঠিত হবে সমতা, সম্মান ও নিরাপত্তার এক সুস্থ সমাজব্যবস্থা।

এই মানবিক আদর্শকে সামনে রেখে সমাজসেবার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন বহু মানুষ। তেমনই এক অনন্য উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার নায়েক পরিবার।

ভক্তরঞ্জন নায়েক ও মীরা নায়কের সুযোগ্য পুত্র রাজকুমার নায়েক এবং তাঁর সহধর্মিনী রিয়া নায়েক দীর্ঘদিন ধরে নীরবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানবসেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই তাঁরা তাঁদের সহকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায়, অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দেন ফল, মিষ্টি, চিঁড়ে, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় বস্ত্র।

নায়েক পরিবারের বাসস্থান বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল থানার অন্তর্গত হরিন্যাগুড়ি গ্রামে, পোস্ট অফিস ময়দরা। গ্রামবাংলার এই সাধারণ পরিবারটি আজ মানবসেবার মাধ্যমে এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁদের এই উদ্যোগ কোনো একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সারা বছর ধরেই তাঁরা মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।

শুধু নিজ এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন মানবিক সহায়তা নিয়ে। রাস্তার ধারে বসবাসকারী মানুষ, রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থাকা অসহায় মানুষ, বৃদ্ধাশ্রম, বিভিন্ন হোম এবং পথশিশুদের জন্য তাঁরা নিয়মিত অন্ন, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করে চলেছেন।

নায়েক পরিবারের এই উদ্যোগ কেবলমাত্র সাহায্য প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজে মানবিকতার এক শক্তিশালী বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে। তাঁদের কাজ বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে সমাজের জন্য কিছু করার। একই সঙ্গে তাঁদের এই মানবিক কর্মকাণ্ড দেশের পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন জাতীয় উদ্যোগের ভাবনার সঙ্গেও সাযুজ্যপূর্ণ।

সমাজের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও মানবিকতার উদাহরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নায়েক পরিবারের এই নিরলস মানবসেবার উদ্যোগের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক অভিনন্দন। আশা করা যায়, ভবিষ্যতেও তাঁরা এভাবেই মানুষের পাশে থেকে সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন এবং মানবতার আলো আরও দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে দেবেন।

Comments

Popular posts from this blog

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI !! উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল !!

কলকাতাঃ  কলকাতার কালীঘাটে ছিয়াত্তর বছর উত্তীর্ণ উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল এবছর অনুষ্ঠিত হল কলেজ প্রাঙ্গণে। গ্রীক চার্চ রো তে।সারা কলেজ জুড়ে ছিল বড়দিনের উৎসবের মেজাজ ।  যীশুখৃষ্টের জন্মদিনের প্রাক পর্বে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্রী কুশল বিশ্বাসের পরিচালনায় ছাত্রীদের যোগদানে প্রার্থনা , খ্রিস্টমাস হিম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  মেয়েদের এই কলেজে বড়দিন উপলক্ষ্যে কার্নিভাল এ বিক্রিত হয় তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবার এবং দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় নানা জিনিস ব্যাগ, পোশাক, অলঙ্কার ইত্যাদি। সুচারু, সুমেলি এবং কলেজের ইকো ক্লাব সারা বছর ব্যাপী মেয়েদের স্বনির্ভর করার ও পরিবেশ সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস যে কর্মশালা ও অন্যান্য আয়োজন করে তারই কার্যকরী বিকি কিনির সময় এই কার্নিভালের দিনটি। প্রাক্তণ ও বর্তমান অধ্যাপক ও ছাত্রীদের মিলনে এই আয়োজন আনন্দ মুখর হয়ে উঠেছিল।

NBI // টোকিওতে প্রথম আনন্দ মেলা: IBCAJ-এর উদ্যোগে বাঙালিয়ানার উৎসব !

টোকিও,জাপান :-  টোকিও শহরে IBCAJ-এর পক্ষ থেকে এবছর অনুষ্ঠিত হলো ১৪তম দুর্গাপূজো। পূজো উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে ২০০-রও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, যা জাপানে বাঙালি সম্প্রদায়ের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ মেলা। IBCAJ-এর সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় ছিল মোট আটটি স্টল— ঝালমুড়ি, ফুচকা-চুরমুড়, বরা পাও, নলেন গুড়ের ক্ষীরমোহন ও সন্দেশ, পাটিসাপ্টা, খুদেদের বানানো কেক, চিকেন টিক্কা ও রু-আবজা — যা টোকিওবাসীর সামনে বাঙালিয়ানার আসল স্বাদ তুলে ধরে। কোতো সিটি সোগো কুমিন সেন্টারের সপ্তম তলার একটি হলে আয়োজিত এই আনন্দ মেলা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা-রও আয়োজন করা হয়, যেখানে সকল সদস্য একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে আনন্দ ভাগ করে নেন। IBCAJ-এর সদস্যদের নিষ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণে দুর্গাপূজো ও আনন্দ মেলা — দুটোই হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় ও সার্থক সাংস্কৃতিক আয়োজন।