Skip to main content

NBI // ১৯৯৮ থেকে মানবতার উৎসব: কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবিরে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ !!

কলকাতা:
মানবতার সেবায় দীর্ঘ ২৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশন। ১৯৯৮ সালে মাত্র ৫০৪ জন স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে নিয়ে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে এক বৃহৎ সামাজিক আন্দোলনে। বর্তমানে তাদের প্রতিটি রক্তদান শিবিরে অংশ নেন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষ।






ক্লাব সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হলেও চলতি বছরে বিশেষ কারণে ২৪ জানুয়ারি আরও বৃহৎ পরিসরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বুধবার কলকাতার ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বাবুন ব্যানার্জি। তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বেচ্ছা রক্তদাতারা এই শিবিরে অংশ নেবেন।




এই রক্তদান শিবিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এর সার্বজনীন চরিত্র। ধর্ম, জাতি কিংবা ভাষার বিভাজন ছাপিয়ে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই মানবতার ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রক্তদানের বিনিময়ে কোনও উপহার, মেডেল কিংবা আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র একটি সার্টিফিকেট ও সামান্য আপ্যায়নের মাধ্যমেই দায়িত্ব সম্পন্ন করা হয়। কারণ, ভালোবাসা ও মানবিক দায়বদ্ধতাকেই এই আন্দোলনের একমাত্র প্রেরণা হিসেবে বিশ্বাস করে সংগঠনটি।






এই বছর রক্ত সংগ্রহের জন্য রাজ্যের নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ১২টি বিভাগের চিকিৎসক দল উপস্থিত থাকবে। রুবি জেনারেল হাসপাতাল, লাইফ কেয়ার, কেস কেবিন, আরএন টেগোর-সহ একাধিক স্বনামধন্য হাসপাতাল এই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকছে বলে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়া ও সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন উইং ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি শুভাশিস মুখার্জি, কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বাবুন ব্যানার্জি, প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রঞ্জি অধিনায়ক সম্বরণ ব্যানার্জি, আইএফএ সভাপতি অজিত ব্যানার্জি সহ আরও অনেকে। বক্তারা একযোগে বলেন, এই রক্তদান শিবির শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা এক মানবিক আন্দোলন।






সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রচারের আবেদন জানিয়ে বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসবেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করে আয়োজকরা জানান—
“কত অজানারে জানাইলে তুমি, কত ঘরে দিলে ঠাঁই।”
এই মানবিক দর্শনকে সামনে রেখেই ভবিষ্যতেও রক্তদান আন্দোলনকে আরও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশন।

Comments

Popular posts from this blog

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI !! উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল !!

কলকাতাঃ  কলকাতার কালীঘাটে ছিয়াত্তর বছর উত্তীর্ণ উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল এবছর অনুষ্ঠিত হল কলেজ প্রাঙ্গণে। গ্রীক চার্চ রো তে।সারা কলেজ জুড়ে ছিল বড়দিনের উৎসবের মেজাজ ।  যীশুখৃষ্টের জন্মদিনের প্রাক পর্বে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্রী কুশল বিশ্বাসের পরিচালনায় ছাত্রীদের যোগদানে প্রার্থনা , খ্রিস্টমাস হিম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  মেয়েদের এই কলেজে বড়দিন উপলক্ষ্যে কার্নিভাল এ বিক্রিত হয় তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবার এবং দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় নানা জিনিস ব্যাগ, পোশাক, অলঙ্কার ইত্যাদি। সুচারু, সুমেলি এবং কলেজের ইকো ক্লাব সারা বছর ব্যাপী মেয়েদের স্বনির্ভর করার ও পরিবেশ সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস যে কর্মশালা ও অন্যান্য আয়োজন করে তারই কার্যকরী বিকি কিনির সময় এই কার্নিভালের দিনটি। প্রাক্তণ ও বর্তমান অধ্যাপক ও ছাত্রীদের মিলনে এই আয়োজন আনন্দ মুখর হয়ে উঠেছিল।

NBI // টোকিওতে প্রথম আনন্দ মেলা: IBCAJ-এর উদ্যোগে বাঙালিয়ানার উৎসব !

টোকিও,জাপান :-  টোকিও শহরে IBCAJ-এর পক্ষ থেকে এবছর অনুষ্ঠিত হলো ১৪তম দুর্গাপূজো। পূজো উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে ২০০-রও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, যা জাপানে বাঙালি সম্প্রদায়ের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ মেলা। IBCAJ-এর সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় ছিল মোট আটটি স্টল— ঝালমুড়ি, ফুচকা-চুরমুড়, বরা পাও, নলেন গুড়ের ক্ষীরমোহন ও সন্দেশ, পাটিসাপ্টা, খুদেদের বানানো কেক, চিকেন টিক্কা ও রু-আবজা — যা টোকিওবাসীর সামনে বাঙালিয়ানার আসল স্বাদ তুলে ধরে। কোতো সিটি সোগো কুমিন সেন্টারের সপ্তম তলার একটি হলে আয়োজিত এই আনন্দ মেলা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা-রও আয়োজন করা হয়, যেখানে সকল সদস্য একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে আনন্দ ভাগ করে নেন। IBCAJ-এর সদস্যদের নিষ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণে দুর্গাপূজো ও আনন্দ মেলা — দুটোই হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় ও সার্থক সাংস্কৃতিক আয়োজন।