Skip to main content

NBI // মুক্তি পেতে চলেছে নতুন ছবি “DUI (Two)” !!

দেবারতি ঘোষ,কলকাতা :- 
সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্রে এক অভিনব শিল্প-প্রয়াস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে পরীক্ষামূলক বাংলা ছবি “DUI (Two)”। কবিতা, চিত্রকলা এবং সিনেমার নান্দনিক মেলবন্ধনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রকে নির্মাতারা অভিহিত করছেন এক বিশেষ “সিনে-পোয়েট্রি” হিসেবে— যেখানে দৃশ্য, শব্দ, আবৃত্তি এবং অনুভূতি মিলেমিশে তৈরি করেছে এক স্বপ্নময় ও গভীর চলচ্চিত্রভাষা।

আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাতা Indranil Sarkar পরিচালিত ও প্রযোজিত এই ছবিটি তাঁর চতুর্থ সিনে-পোয়েট্রি নির্মাণ। ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন দুই কবি— Prabal Kumar Basu এবং Dr. Debanjan Pan। তাঁদের জীবন, অভিজ্ঞতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সৃষ্টিশীলতার উৎসকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে ছবির দুইটি স্বতন্ত্র অধ্যায়।

জীবনের নানা মোড়, সম্পর্ক, স্মৃতি ও সময়ের অভিঘাত কীভাবে এক কবির ভেতরে জন্ম দেয় কবিতার— সেই আত্মিক যাত্রাকেই চলচ্চিত্রের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে “DUI”-এ। বিভিন্ন কণ্ঠের বর্ণনার মধ্য দিয়ে যেমন উঠে এসেছে কবিদের জীবনপথ, তেমনই তাঁরা নিজের কণ্ঠে আবৃত্তি করেছেন তাঁদের কবিতা। ফলে বাস্তবতা ও কল্পনার সীমারেখা বারবার মিশে গিয়ে তৈরি করেছে এক সম্মোহনী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।

বিশিষ্ট অভিনেত্রী Rayati Bhattacharya অভিনয় করেছেন এক প্রতীকী ‘মিউজ’-এর ভূমিকায়, বিশেষত প্রবাল কুমার বসুকে কেন্দ্র করে নির্মিত অংশে। তাঁর উপস্থিতি ছবিতে এনে দিয়েছে এক রহস্যময়, আধ্যাত্মিক এবং দার্শনিক আবহ, যা চলচ্চিত্রের অন্তর্নিহিত কাব্যিকতাকে আরও গভীর করেছে।

এই প্রজেক্টে সহযোগী পরিচালক হিসেবে রয়েছেন Chandrima Ray এবং চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে আছেন Subhankar Majumdar। তাঁদের সংবেদনশীল ভিজ্যুয়াল নির্মাণ ছবির কাব্যময় আবহকে দিয়েছে এক অনন্য নান্দনিকতা।
ছবিটির শুটিং হয়েছে কলকাতার নগরজীবনের ব্যস্ততা এবং উত্তরবঙ্গের মনোরম প্রকৃতিকে পাশাপাশি রেখে। দার্জিলিং, মিরিক, চিসাং ও পারেনের অপার সৌন্দর্য যেমন ছবির ভিজ্যুয়াল ক্যানভাসকে সমৃদ্ধ করেছে, তেমনই কলকাতার শহুরে বাস্তবতা তৈরি করেছে এক বিপরীত অথচ পরিপূরক আবহ। এই দুই ভিন্ন ভূদৃশ্য যেন কবিদের মানসিক ও দার্শনিক যাত্রারই প্রতিচ্ছবি।

সম্প্রতি ছবিটির শুটিং পর্ব সম্পূর্ণ হয়েছে এবং বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলছে। নির্মাতাদের আশা, আগামী সেপ্টেম্বর ২০২৬ নাগাদ মুক্তির জন্য প্রস্তুত হবে “DUI (Two)”।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, Indranil Sarkar দীর্ঘদিন ধরেই ডকুমেন্টারি, পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র এবং ফিচার সিনেমার মাধ্যমে ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রভাষা নির্মাণে কাজ করে চলেছেন। তাঁর প্রথমদিকের ডকুমেন্টারি “The Worker – for a Drop of Honey” (২০০৫) থেকে শুরু করে “Daniel’s Diary” (২০১৮) এবং ইরম শর্মিলা চানুকে কেন্দ্র করে নির্মিত “The Turning Point” (২০১৯)— প্রতিটি কাজেই তিনি তুলে ধরেছেন সমাজ, রাজনীতি এবং মানবমনের গভীরতম প্রশ্নগুলো। সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায় “DUI (Two)”।

অপ্রচলিত নির্মাণশৈলী, কাব্যময় উপস্থাপনা এবং গভীর শিল্প-চিন্তার মাধ্যমে “DUI (Two)” শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং এক অনুভবের যাত্রা হয়ে উঠতে চলেছে— যা বাংলা পরীক্ষামূলক সিনেমাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে চলচ্চিত্র মহল।

Comments

Popular posts from this blog

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI !! উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল !!

কলকাতাঃ  কলকাতার কালীঘাটে ছিয়াত্তর বছর উত্তীর্ণ উইমেন্স ক্রিশ্চিয়ান কলেজের চতুর্থ তম ক্রিসমাস কার্নিভাল এবছর অনুষ্ঠিত হল কলেজ প্রাঙ্গণে। গ্রীক চার্চ রো তে।সারা কলেজ জুড়ে ছিল বড়দিনের উৎসবের মেজাজ ।  যীশুখৃষ্টের জন্মদিনের প্রাক পর্বে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্রী কুশল বিশ্বাসের পরিচালনায় ছাত্রীদের যোগদানে প্রার্থনা , খ্রিস্টমাস হিম এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  মেয়েদের এই কলেজে বড়দিন উপলক্ষ্যে কার্নিভাল এ বিক্রিত হয় তাদের নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন খাবার এবং দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় নানা জিনিস ব্যাগ, পোশাক, অলঙ্কার ইত্যাদি। সুচারু, সুমেলি এবং কলেজের ইকো ক্লাব সারা বছর ব্যাপী মেয়েদের স্বনির্ভর করার ও পরিবেশ সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস যে কর্মশালা ও অন্যান্য আয়োজন করে তারই কার্যকরী বিকি কিনির সময় এই কার্নিভালের দিনটি। প্রাক্তণ ও বর্তমান অধ্যাপক ও ছাত্রীদের মিলনে এই আয়োজন আনন্দ মুখর হয়ে উঠেছিল।

NBI // টোকিওতে প্রথম আনন্দ মেলা: IBCAJ-এর উদ্যোগে বাঙালিয়ানার উৎসব !

টোকিও,জাপান :-  টোকিও শহরে IBCAJ-এর পক্ষ থেকে এবছর অনুষ্ঠিত হলো ১৪তম দুর্গাপূজো। পূজো উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে ২০০-রও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, যা জাপানে বাঙালি সম্প্রদায়ের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ মেলা। IBCAJ-এর সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় ছিল মোট আটটি স্টল— ঝালমুড়ি, ফুচকা-চুরমুড়, বরা পাও, নলেন গুড়ের ক্ষীরমোহন ও সন্দেশ, পাটিসাপ্টা, খুদেদের বানানো কেক, চিকেন টিক্কা ও রু-আবজা — যা টোকিওবাসীর সামনে বাঙালিয়ানার আসল স্বাদ তুলে ধরে। কোতো সিটি সোগো কুমিন সেন্টারের সপ্তম তলার একটি হলে আয়োজিত এই আনন্দ মেলা ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পূজোর সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা-রও আয়োজন করা হয়, যেখানে সকল সদস্য একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে আনন্দ ভাগ করে নেন। IBCAJ-এর সদস্যদের নিষ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণে দুর্গাপূজো ও আনন্দ মেলা — দুটোই হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় ও সার্থক সাংস্কৃতিক আয়োজন।