নিউজ ডেস্ক - এটা কেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে দলীয় শৃঙ্খলার কোনও মূল্যই নেই? যখন রাজ্য সভাপতি নিজেই নির্দেশ দেন যে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি অগ্রাধিকার পাবে, তখন একটি জেলা যুবমোর্চার সভাপতির এতটা ঔদ্ধত্য আসে কোথা থেকে যে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে নিজের ছবি বড় করে হোর্ডিং লাগান?
এর থেকেও গুরুতর বিষয়—কয়েকদিন আগেই দেখা গেছে, স্থানীয় বিধায়ককে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বিজেপির দখল করা একটি পার্টি অফিস ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁকে কে দিয়েছে? দল কি ব্যক্তিগত ইচ্ছেমতো চলবে, নাকি নির্দিষ্ট কাঠামো ও অনুমতির ভিত্তিতে?
মানিকতলা বিধানসভার বিধায়ক যদি এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে না থাকেন, তাহলে অনুমতি ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস কোথা থেকে আসে? এটা কি দলীয় শৃঙ্খলার প্রকাশ, না কি ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি?
এর আগেও একাধিকবার এই সভাপতিকে দলবিরোধী অবস্থান নিতে দেখা গেছে। দলীয় অফিসে বসে নেতাদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করা, এমনকি একজন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া—এসব ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিষয়ে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
প্রশ্ন একটাই—এই ধরনের আচরণ যদি বারবার ঘটে, তাহলে তার দায় শুধু ব্যক্তির নয়, যারা তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন তাদেরও। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক দলে এই ধরনের চরিত্রের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে, তার ক্ষতি অনিবার্য।
সময় এসেছে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। দল কি নীতিতে চলবে, না কি ব্যক্তিকেন্দ্রিক অনিয়ন্ত্রিত আচরণকে মেনে নেবে?
Comments
Post a Comment