Skip to main content

NBI ।। মানুষের হাসিতেই ঈশ্বর খুঁজে নেন ঝাড়গ্রামের সুদীপ্ত"

ঝাড়গ্রাম ,নিউজ ডেস্ক:- 
“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” — স্বামী বিবেকানন্দ
স্বামী বিবেকানন্দের এই অমর বাণী শুধু একটি উক্তি নয়, এটি মানবজীবনের এক চিরন্তন দর্শন। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ সেবার মধ্য দিয়েই ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা যায়। তাই মানবসেবাই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা, আর মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই প্রকৃত পূজা।



'সেবা' শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে আছে আত্মত্যাগ, মমত্ব, করুণা, ভক্তি এবং মানবকল্যাণের এক গভীর অঙ্গীকার। ব্যবসায়িক সেবা বা ব্যক্তিগত সেবার সীমা ছাড়িয়ে সমাজসেবা এমন এক মহৎ কর্মযজ্ঞ, যার মূল উদ্দেশ্য অসহায়, দরিদ্র, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কোনো প্রতিদানের আশায় নয়, কেবল মানবতার আহ্বানে সাড়া দিয়েই কিছু মানুষ তাঁদের জীবনকে উৎসর্গ করেন সমাজের কল্যাণে।
এমনই এক নীরব মানবসেবক সুদীপ্ত চক্রবর্তী। স্বর্গীয় দুলাল চক্রবর্তী ও অনিতা চক্রবর্তী-এর সুযোগ্য পুত্র তিনি। মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং মনীষীদের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি মানবসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।



পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলার তারাপুর গ্রামের এই মানুষটি কোনো প্রচারের আলো খোঁজেন না। সমাজের দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দেন বস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী, চাল, ডাল, ওষুধ, অক্সিজেন, ছাতা এবং শিশুদের জন্য বই-খাতা। স্টেশনে বসবাসকারী অসহায় মানুষদের প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে চলেছেন তিনি। বছরের প্রতিটি দিন, নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে, কোনো প্রচার বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা ছাড়াই তিনি মানবতার সেবায় নিবেদিত।
ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা সম্প্রদায়ের সংকীর্ণ বিভাজনকে অতিক্রম করে তিনি বিশ্বাস করেন—মানুষই মানুষের আপন, আর মানবসেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তাঁর এই কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে, সমাজ পরিবর্তনের জন্য বিপুল সম্পদের নয়, প্রয়োজন একটি বড় হৃদয় এবং আন্তরিক মানবিকতা।



তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ শুধু অসহায় মানুষের মুখে হাসিই ফোটায় না, সমাজের অসংখ্য মানুষকেও অনুপ্রাণিত করে। পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রধানমন্ত্রীর “স্বচ্ছ ভারত অভিযান”-এর ভাবনার সঙ্গেও তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের সুন্দর সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। কারণ একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
আজকের এই আত্মকেন্দ্রিক সময়ে সুদীপ্ত চক্রবর্তীর মতো মানুষ আমাদের মনে করিয়ে দেন—মানবতা এখনো বেঁচে আছে। মানুষের দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করে যাঁরা এগিয়ে আসেন, তাঁরাই সমাজের প্রকৃত সম্পদ।


সমাজের এই নীরব মানবসেবকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, আন্তরিক ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ শুভেচ্ছা। আগামী দিনেও তিনি এভাবেই মানবতার দীপশিখা জ্বালিয়ে রাখুন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটান এবং আরও বহু মানুষকে সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করুন—এই প্রার্থনাই রইল।
কারণ, মানুষের মধ্যেই ঈশ্বরের বাস; আর মানবসেবার মধ্যেই ঈশ্বরসেবার পূর্ণতা।

Comments

Popular posts from this blog

NBI !! মৃনাল কান্তি গায়েনের মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি "জাগো হে সুন্দরবনবাসী" দুটো ফিল্ম ফেস্টিভালে শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসাবে পুরস্কৃত হয়েছে !!

কলকাতা ।। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি,২০২৬ ।।  গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী,মুখ্য চরিত্রাভিনেতা, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক শ্রী মৃণাল কান্তি গায়েন তার মিউজিক্যাল ডকুমেন্ট্রি গানের ভিডিও অ্যালবাম- "জাগো হে সুন্দরবনবাসী "(Awake the people of Sundarban )দু'টো দু'টো বিখ্যাত ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও হিসেবে পুরস্কৃত হল ।  ২০২৫ সালে হরিয়ানা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে(  Haryana International Film Festival, 2025)  প্রদর্শনের জন্য  গোটা বিশ্বের থেকে বাছাই করা আটটি(০৮) গানের অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে স্থান পেয়েছে। এবং বেলঘরিয়া ফ্লিম ফেস্টিভাল, 2026 এ "বেস্ট ডকুমেন্টারি মিউজিক ভিডিও অন ইনভায়রণমেন্ট্" হিসাবে পুরস্কৃত হল । 

NBI // বেলগাছিয়ায় ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজো—২০২৬ দুর্গাপুজোর সূচনা আনুষ্ঠানিকভাবে।।

কলকাতা: রথযাত্রার পবিত্র তিথিকে সামনে রেখে উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলে বৃহস্পতিবার আয়োজিত হল ঐতিহ্যবাহী “খুঁটি পুজো”। বেলগাছিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ২০২৬ সালের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি পর্ব। দুর্গাপুজোর মণ্ডপ নির্মাণের শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে খুঁটি পুজো বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ধর্মীয় নিয়মনীতি মেনে পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ভক্তি ও উৎসাহের পরিবেশে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি অরিন্দম সাহা , সম্পাদক অভিষেক দাস,কার্য নির্বাহী কমিটি সদস্য অনির্বাণ ভট্টাচার্য তাঁদের পাশাপাশি এলাকার বহু বাসিন্দা এই শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং দুর্গোৎসবের সূচনায় সামিল হন।পুজোর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মা দুর্গার আশীর্বাদ কামনা করে উদ্যোক্তারা জানান, এই খুঁটি পুজোর মাধ্যমেই এবারের দুর্গোৎসবের পথচলা শুরু হল। তাঁরা আশাবাদী, সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক অংশগ্রহণে আসন্ন দুর্গাপুজো আরও সাফল্যমণ্ডিত ও বর্ণময় হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলের মঙ্গল, শান্তি...

NBI // সাফল্যের ৬০ দিন পূর্তি: 'পোড়া বাঁশি'র উদযাপনে পরিচালক-অভিনেতাদের বর্ণাঢ্য সমাবেশ।।

ডিজিটাল ডেস্কঃ  সাম্প্রতিক টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে "তারামা মোশন পিকচারস" ফিল্ম প্রোডাকশন হাউস নিবেদিত পরিচালক, শুভম দাস পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমা"পোড়া বাঁশি"র 60 Days celebration party অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রোডাকশন হাউসের নিজস্ব অফিসে। কেক কেটে সেলিব্রেশানের শুভ সূচনা হয়।  দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশিষ্ট গুণীজনদের সহিত অন্যান্য পরিচালক, টেকনিশিয়ানস ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বিশেষ সম্বর্ধনার দেওয়া হয়। পাশাপাশি, আড্ডা খাওয়া দাওয়া এবং শিল্পীদের নাচ-গানের মধ্য দিয়ে তৃতীয় পর্যায়ের জমজমাট সমগ্র অনুষ্ঠানটি মনোগ্রাহী হয়ে উঠে।   উপস্থিত ছিল বিশিষ্ট পরিচালক স্বপন সাহা, বিশিষ্ট অভিনেত্রী অনামিকা সাহা, পরিচালক শুভম দাস, শাস্ত্রীজি, প্লেব্যাক সিঙ্গার-অর্ণব ব্যানার্জি, গুরিয়া, কোরিওগ্রাফার-রত্না, পরিচালক কাঞ্চন নাগ, অনসূয়া সামন্ত, সরস্বতী দাস,রুনা (রায়না বূটিক), হাউস ইনচার্জ-রিনা দাস, হাউস ম্যানেজার-পবিত্র হালদার।  হিরোইনদের মধ্যে উপস্থিত ছিল-বনশ্রী, মৌপ্রিয়া, পৌলোমী, সিউ, সোনু,  অনসূয়া। অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ‍্যে উপস্থিত ছিল-মাধব,সৌমক, সুপ্রভাত...