NBI // করম পুজো ও ঝুমুরের সুরে স্মরণীয় হয়ে রইল শহীদ মূর্তি উন্মোচন, মূর্তির আবরণ সরালেন মন্ত্রী রাজেশ মাহাত 📍
কলাইকুন্ডা: "জহার বুড়াবাবা, জয় গরাম, জহার মহামাঞ্চ — বীর শহীদ চুনারাম মাহাত গোবিন্দ মাহাত অমর রহে।" এই জয়ধ্বনিতে বুধবার মুখরিত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা (পাথরী) গ্রাম। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বীর শহীদ স্বাধীনতা সংগ্রামী চুনারাম মাহাত ও গোবিন্দ মাহাতের শহীদ দিবস উপলক্ষে তাঁদের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনকে ঘিরে এদিন ছিল উৎসবের আমেজ।
চুনারাম মাহাত গোবিন্দ মাহাত স্মৃতিরক্ষা কমিটির আয়োজনে এবং ছোটনাগপুর টোটেমিক কুড়মি সমাজের ব্যবস্থাপনা ও প্রচারে অনুষ্ঠানে ঢল নামে কুড়মি সমাজ সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের।
>করম পুজো দিয়ে সূচনা:
প্রথা মেনে করম পুজোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। সমাজের রীতি-নীতি মেনে পুজো অর্চনার পর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
>ঝুমুরে মাতল মঞ্চ:
সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা করেন বিশিষ্ট ঝুমুর শিল্পী দীপক মাহাতো। তাঁর গানের পর একে একে মঞ্চ মাতিয়ে দেন জয়ন্ত মাহাতো, মলয় মাহাতো সহ আরও অনেক ঝুমুর শিল্পী। ঝুমুরের তালে তালে পা মেলান পাতা নাচের শিল্পীরা। শিল্পীদের গান ও নাচে মুহূর্তেই জমজমাট হয়ে ওঠে মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান। দর্শকদের করতালি ও উলুধ্বনিতে ভরে ওঠে চারদিক।
>মূর্তি উন্মোচন:
এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফুলে সাজানো মঞ্চে শহীদ চুনারাম মাহাত ও গোবিন্দ মাহাতের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মন্ত্রী রাজেশ মাহাত। মূর্তিতে মাল্যদান করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত অতিথি ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা।
এই সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
>দাতাদের সম্মান:
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মহতী উদ্যোগে জমি দান করেছেন নিতাই মাহাত ও চিরঞ্জিত মাহাত এবং মূর্তি দান করেছেন মনোরঞ্জন মাহাত। অনুষ্ঠানে তাঁদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।সব মিলিয়ে শহীদ স্মরণ, সংস্কৃতি ও সমাজের মিলনে এদিনের অনুষ্ঠান এক অন্য মাত্রা পায়।
Comments
Post a Comment